ইয়োব. 11. তখন নামাথীয় সোফর ইয়োবকে উত্তর দিলেন এবং বললেন: “এই কথার বন্যার উত্তর দেওয়া দরকার! এতো কথা কি ইয়োবকে সঠিক বলে প্রমাণ করে না! ইয়োব, তুমি কি ভেবেছ তোমার জন্য আমাদের কাছে কোন উত্তর নেই? তুমি কি ভেবেছো যখন তুমি ঈশ্বরকে বিদ্রূপ করবে, তখন কেউ তোমাকে সাবধান করবে না? ইয়োব, তুমি ঈশ্বরকে বলেছো, ‘আমার যুক্তিগুলি সত্য এবং আপনি দেখে নিন আমি শুচিশুদ্ধ|’ ইয়োব, আহা যদি ঈশ্বর তোমায় উত্তর দিতেন! আশা করি তিনি তোমার সঙ্গে কথা বলবেন| ঈশ্বর তোমাকে প্রজ্ঞার গূঢ়তত্ত্ব বলতে পারতেন| প্রকৃত প্রজ্ঞার দুটি দিক থাকে| অনুভব করো ঈশ্বর তোমার কিছু পাপ ভুলে গেছেন| তোমাকে তাঁর যতটা শাস্তি দেওয়া উচিৎ‌ ছিল ততটা তিনি অবশ্যই তোমাকে দিচ্ছেন না| “ইয়োব, তুমি কি মনে কর যে তুমি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরকে বুঝেছ? তুমি কি মনে কর তুমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সীমা আবিষ্কার করে ফেলেছ? স্বর্গে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তুমি কিছুই করতে পারো না| মৃত্যুর স্থান সম্পর্কেও তুমি কিছুই জানো না| ঈশ্বর পৃথিবীর থেকে বৃহৎ‌‌ এবং সমুদ্রের থেকেও বড়| “যদি ঈশ্বর তোমায় আটক করেন এবং তোমায় আদালতে নিয়ে যান, কেউই তাঁকে ঠেকাতে পারবে না| প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই জানেন যে কে অপদার্থ| যখন ঈশ্বর কোন মন্দ কাজ দেখেন তিনি তা মনে রাখেন| একটা বুনো গাধা কখনও একটা মানুষের জন্ম দিতে পারে না| এবং একজন নির্বোধ লোক কখনও জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না| “কিন্তু ইয়োব, তুমি তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরমুখী করো এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা রত তোমার হাত দুটি তুলে ধরো| তোমার পাপকে তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে রাখ| তোমার তাঁবুতে কোন মন্দ লোককে বাস করতে দিও না| তাহলে তুমি লজ্জা না পেয়ে মুখ তুলতে পারবে| ভীত না হয়ে তুমি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে| তাহলে তুমি তোমার দুর্ভোগ ভুলতে পারবে| তুমি তোমার সমস্যাগুলিকে বয়ে যাওয়া জলের চেয়ে বেশী মনে রাখবে না| তাহলে তোমার জীবন দুপুরের সূর্য প্রভার থেকেও অধিকতর উজ্জ্বল হয়ে উঠবে| জীবনের অন্ধকারতম সময়গুলো সকালের সূর্যের মত জ্বলজ্বল করবে| তখন তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করবে| কারণ তখন আশা থাকবে| ঈশ্বর তোমার প্রতি যত্ন নেবেন এবং তিনি তোমায় বিশ্রাম দেবেন| তুমি শুয়ে পড়তে পারবে এবং কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না| এবং অনেক লোক সাহায্যের জন্য তোমার কাছে আসবে| দুষ্ট লোকরা সাহায্যের প্রত্যাশা করতে পারে কিন্তু তারা তাদের সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে না| তাদের আশার একমাত্র পরিণাম হবে মৃত্যু|”